বিহঙ্গ

অ্যালবাট্রস, সমুদ্রের বিশাল বিহঙ্গ, যেন অলস
ভ্রমণ-সঙ্গী, জাহাজের পিছু পিছু ওড়ে
গভীর থেকে গভীরে যায় জাহাজ, তারাও সঙ্গে সঙ্গে
যায়
নাবিকেরা এক একসময় তাদের বন্দী করে
খেলাচ্ছলে।

ডেকের ওপর তাদের নামিয়ে আনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে
নীল আকাশের রাজা, এই পাখিরা বিভ্রান্ত, এবং
লজ্জা মাখা মুখে
তাদের মস্ত বড় দুটি শাদা ডানা ছড়িয়ে দেয় দু’পাশে
যেন করুণ ভাবে ঝুলতে থাকা দুটি দাঁড়

কিছুক্ষণ আগেই যে ছিল দুর্দান্ত সুন্দর, এখন সে
কেমন
দুর্বল আর জেবড়া-জোবড়া, সেই উড়ন্ত পর্যটককে
এখন দেখাচ্ছে কী কুৎসিত আর কিম্ভুত
এখজন খোঁচাচ্ছে তার চঞ্ঝু, অন্য কেউ খুঁড়িয়ে
খুঁড়িয়ে নকল করছে তাকে।

কবিও ঠিক যেন এই মেঘের যুবরাজের মতন
ঝড়ের সঙ্গে অনবরত ঘোরে, তীরন্দাজদের উপহাস
করে
নির্বাসিত হয়ে আসে পৃথিবীতে, চতুর্দিকে
ধিক্কার-বিদ্রূপ
প্রকাণ্ড দুই ছড়ানো ডানার জন্য সে হাঁটতে পারে না।

– শার্ল বোদলেয়ার